রবিবার ১৮ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ সকাল ৬:২৮
শিরোনামঃ
তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন নেপাল,ভুটানের রাষ্ট্রদূত প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে ফুলের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। চট্টগ্রামে ৩৩০ ‘দুষ্কৃতকারীর’ প্রবেশে -নিষেধাজ্ঞা চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ (সিএমপি)। কুরআনের আলোয় জীবন পরিচালনাই প্রকৃত সফলতা -দরবারে গাউসুল আযম মাইজভাণ্ডারী গাউসিয়া হক মনজিলের সাজ্জাদানশীন হযরত শাহসুফি সৈয়দ মোহাম্মদ হাসান মাইজভাণ্ডারী চৌহালীতে চুড়ান্ত ফাইনাল ফুটবল খেলা দেখতে জনতার ঢল অন্নদা ঠাকুরের আদ্যাপীঠে ৮ হাজার দুঃস্থকে বস্ত্রদান। বাংলাদেশে নির্বাচনী পর্যবেক্ষণ মিশন দেশের ৬৪টি প্রশাসনিক জেলায় ৫৬ জন দীর্ঘমেয়াদি পর্যবেক্ষক মাঠে নেমেছে শেখ হাসিনার মতো যেন আর দৈত্য-দানব না হয় সেজন্য ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে বলছি-প্রেস সচিব শফিকুল আলম কাশীপুর বেলগাছিয়া কেন্দ্র তৃণমূল কংগ্রেস আয়োজিত– ফুড ফেস্টিভ্যালের শুভ সূচনা আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কারাবন্দি বিএনপির চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার চিকিৎসায় চরম অবহেলা গাফিলতি করা হয় -ডা. এফ এম সিদ্দিকী।

নিজেকে একজন বংশীবাদক হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন প্রয়াত গায়ক বারী সিদ্দিকী

nagarsangbad24
  • প্রকাশিত: নভেম্বর, ২৪, ২০২৪, ১০:৫১ অপরাহ্ণ
  • ১৩৮ ০৯ বার দেখা হয়েছে

 

 

 

নিজেকে একজন বংশীবাদক হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন প্রয়াত গায়ক বারী সিদ্দিকী

প্রয়াণ নশ্বর দেহটাকে সবার কাছ থেকে তাকে আলাদা করে দিয়েছে। কিন্তু প্রিয় শিল্পীর প্রতি যে শ্রদ্ধা আর ভালোবাসা তা কোনোদিন শেষ হবার নয়।

বলছি প্রয়াত গায়ক বারী সিদ্দিকীর কথা। তিনি ছিলেন, থাকবেন অনন্তকাল শ্রোতাদের হৃদয়ে।

 

কণ্ঠে ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজ, আমার মন্দ স্বভাব, আমার গায়ে যত দুঃখ সয়, শুয়া চান পাখি’ এ ধরনের মর্মস্পর্শী গান শ্রোতা ভক্তদের উপহার দিয়েছেন, আর যাই হোক তাকে একজীবনে ভোলা যাবে না।

হিজলে তমালে ছাওয়া আদিঅন্তহীন হাওরের বুক থেকে গান নিয়ে বারী সিদ্দিকী ছড়িয়ে দিয়েছিলেন সারা বাংলায়। জল ছলছল লিলুয়া বাতাসে ভেসে সেই অপরূপ গানে স্পর্শ করেছিলেন সমগ্র বাংলাভাষী মানুষদের মন।

রোববার (২৪ নভেম্বর) এই গুণী শিল্পীর মৃত্যুবার্ষিকী। ২০১৭ সালের আজকের এই দিনে চলে গেছেন অধরা জগতের দূর নীলিমায়। সাত বছর হয়ে গেল বারী সিদ্দিকী নেই।

১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোনা সদরের কাইলাটি ইউনিয়নের ফচিকা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন বারী সিদ্দিকী। পরে জেলা সদরের কারলিতে ‘বাউল বাড়ি’ করেন তিনি।

বাবা মহরম আলী ও মা প্রয়াত জহুর-উন-নিসা। তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে বারী সবার ছোট। বয়স যখন তিন-চার, সেই বয়সেই মায়ের কাছে তার প্রথম শোনা গান ছিল ‘শ্বাশুড়িরেও কইয়ো গিয়া’। সেই গানের সুরই বারীর মনে গেঁথে যায়। যদিও পরিবারে সেভাবে সংগীত চর্চা ছিল না। সৌখিন হিসেবে বলা যায়। বারীর বয়স যখন পাঁচ তখন বড় ভাইয়ের বাঁশিতে ফু দিয়ে অন্যরকম আগ্রহের সৃষ্টি হয় বাঁশি শেখার প্রতি।

বারী তার বাঁশি ও গান শেখার উৎসাহ পেয়েছেন মায়ের কাছ থেকে। ছোটবেলায় বাঁশি বাজাতেন মূলত বড় ভাইদের নকল করে। সেসময় নেত্রকোনায় বাঁশি শেখার সুযোগ ছিল না। তবে সাত-আট বছর বয়সে মা জহুর-উন-নিসার কাছে গান শেখা শুরু করেন।

মায়ের কাছ থেকে জীবনে তিনি প্রথম যে গানটির সুর বাঁশিতে তুলে নিয়েছিলেন সেই সুরটিই তিনি পরবর্তীতে হুমায়ূন আহমেদর ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে ব্যবহার করেন। সেটি ছিল শ্যাম বিচ্ছেদের একটি সুর; ‘আস্ট আঙ্গুল বাঁশের বাঁশি/মধ্যে মধ্যে ছ্যাদা/ নাম ধরিয়া ডাকে বাঁশি/ কলংকিনী রাধা/’।

বারী সিদ্দিকী যখন হাইস্কুলে পড়তেন, তখন থেকেই তিনি জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে সংগীত শেখা শুরু করেন। ওস্তাদ ছিলেন শ্রী গোপাল দত্ত। বড় দুই ভাই এবং রফিক মাহমুদ, বিপুল চৌধুরী, দুলাল দত্তনবীশ, হযরত আলীর কাছ থেকেও গানে সহযোগিতা পেয়েছেন। তখনই স্বপ্ন দেখেন গান গাইবেন, শিল্পী হবেন।

১৯৮০ সালের দিকে ঢাকায় শুদ্ধ সংগীত প্রসারের একটি অনুষ্ঠানে পরিচয় হয় ওস্তাদ আমিনুর রহমানের সঙ্গে। তিনি পাইলট ছিলেন। ভারতবর্ষের বিখ্যাত বংশীবাদক ওস্তাদ পান্না লাল ঘোষের শিষ্য ছিলেন। আমিনুর রহমানের বাড়িতে থেকেই বাঁশিতে তালিম নিতে থাকেন দিনের পর দিন। সেখানে থেকেই ওস্তাদ তাগাল ব্রাদার্স, পণ্ডিত দেবেন্দ্র মুৎসুদ্দী, ওস্তাদ আয়েফ আলী খান মিনকারীর সান্নিধ্য পেয়েছিলেন।

পণ্ডিত বিজি কারনাডের কাছেও বাঁশি শিখতে তিনি পুনেতে গিয়েছিলেন। এভাবে একসময় বারী শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে বাংলাদেশ রেডিও-টেলিভিশনসহ সম্মিলিত একটি যন্ত্রসংগীত প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন। এর পরপরই তিনি দক্ষিণ এশীয় সার্ক ফেস্টিভ্যালে যান বাঁশি বাজাতে। সেটি ছিল সরকারি সহযোগিতা।

এরপর ধীরে ধীরে আরও পরিচিত হয়ে উঠতে লাগলেন। বাঁশি বাজান উচ্চাঙ্গ সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে। হুমায়ূন আহমেদর এক জন্মদিনের অনুষ্ঠানে তার বাসায় যান বাঁশি বাজাতে। সেখানে বাঁশি বাজানোর পাশাপাশি গানও করেন।

হুমায়ূন আহমেদ তাকে আরও গান গাইতে বলেন। গান শুনে মুগ্ধ হন হুমায়ূন। ১৯৯৫ সালে বিটিভির ‘রং-এর বারৈ’ অনুষ্ঠানে প্রথম গান করেন বারী সিদ্দিকী। এর পরপরই হুমায়ূন আহমেদ তাকে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ চলচ্চিত্রে গান গাইতে বলেন।

চলচ্চিত্রের গানে আকাশ-ছোঁয়া জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরপরই বাজারে তার দু’টি একক অ্যালবাম আসে। একটি ‘দুঃখ রইলো মনে’ এবং অন্যটি ‘অপরাধী হইলেও আমি তোর’। সংবাদপত্রকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সিদ্দিকী বলেছিলেন, ‘হুমায়ূন স্যার আমার গাওয়ার পেছনে যথেষ্ট উৎসাহ দিয়েছিলেন। মূলত তার সাহস নিয়েই সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রয়াস পেয়েছি। ’

দু’টি অ্যালবামই লুফে নেয় শ্রোতারা। সেসময় উকিল মুন্সীর লেখা গান শ্রোতাদের কাছাকাছি নিয়ে আসতে পেরে বারী সিদ্দিকী দারুণ উচ্ছ্বাসে ভাসেন। তিনি সবসময়ই নিজেকে একজন বংশীবাদক হিসেবে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। বংশীবাদক হিসেবে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে তিনি বাঁশি বাজিয়ে শ্রোতা-দর্শককে মুগ্ধ করেছেন।

১৯৯৯ সালে ফ্রান্সে ওয়ার্ল্ড ফ্লুট সম্মেলনে এই উপমহাদেশ থেকে তিনিই প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন। এটি ছিল বাংলাদেশের জন্য এক বিরাট অর্জন। একজন গায়ক হিসেবে জনপ্রিয়তা পাওয়ার আগে বারী সিদ্দিকী বংশীবাদক হিসেবে বাঁশি বাজিয়েছেন দু’দশক ধরে। কিন্তু গায়ক হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার পর দেশের বাইরে বংশীবাদক হিসেবে তার সফর কমে যায়। কণ্ঠশিল্পী হিসেবেই তিনি বিশ্বের বিভিন্ন দেশে গিয়েছেন।

১৯৮০ সালে বারী সিদ্দিকী পেশাগতভাবে বাঁশি বাজানো শুরু করেন। ১৯৮৬ সালে প্রথম বিটিভিতে ‘সৃজন’ অনুষ্ঠানে বাঁশি বাজান। বারী সিদ্দিকী ‘মাটির পিঞ্জিরা’ নামের একটি চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছিলেন। পরে তিনি ফেরারি অমিতের নির্দেশনায় ‘পাগলা ঘোড়া’ নাটকেও অভিনয় করেন। তবে অভিনয় করতেন নিতান্তই অনুরোধে এবং শখের বশে।

এ বিভাগের আরও খবর...

পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১  

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১  
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | নগর সংবাদ
Design & Developed BY:
ThemesCell