শুক্রবার ১৬ই জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ভোর ৫:৪৩
শিরোনামঃ
শবে মেরাজের গুরুত্ব(লাইলাতুল মেরাজ) সরস্বতী প্রতিমার কাজে ব্যাস্ত কুমারটুলির মহিলা মৃৎশিল্পী থেকে অন্যান্য শিল্পীরা। জাতীয় প্রাণিসম্পদ সপ্তাহ ২০২৫  সমাপনী চৌহালীতে বিনামূল্যে ঁহাস বিতরণ  প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সপরিবারে সাক্ষাৎ করেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যমুনায় বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এমন কিছু করছি না যে পরবর্তী সরকারকে এসে উল্টেপাল্টে দিতে হবে-পররাষ্ট্র উপদেষ্টা দেশের ক্রান্তিলগ্নে বিএনসিসি ক্যাডেটদের ভূমিকা অগ্রণী- সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামান বরানগর পৌরসভার রবীন্দ্র ভবনে শুভ সূচনা হলো – নবম নাট্য উৎসব ২০২৬ । রাজধানীতে অপারেশন ডেভিল হান্ট ২৪ ঘণ্টায় -গ্রেফতার ৫৩ । বিবেকানন্দ সেবা প্রতিষ্ঠানের উদ্যোগে, মনীষী স্বামী বিবেকানন্দের ১৬৩ তম জন্ম দিবস পালন করেন।

শবে মেরাজের গুরুত্ব(লাইলাতুল মেরাজ)

nagarsangbad24
  • প্রকাশিত: জানুয়ারি, ১৬, ২০২৬, ৫:১২ পূর্বাহ্ণ
  • ২ ০৯ বার দেখা হয়েছে

শবে মেরাজের গুরুত্ব(লাইলাতুল মেরাজ)

রসুল (সা.)-এর গৌরবদীপ্ত জীবনে মেরাজের ঘটনাটি বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। তাঁর ৫২ বছর বয়সে এই গৌরবময় ঘটনাটি নবুয়তের ১২তম বর্ষে ২৭ রজব রাত্রিতে (২৬ তারিখ দিবাগত রাত) সংঘটিত হয়। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে রসুল (সা.) মহান আল্লাহর সান্নিধ্য লাভ করেন। এই মহিমান্বিত সাক্ষাতের ঘটনাটি প্রতি বছর বিশ্বের সব মুসলমান গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করে লাইলাতুল মেরাজ উদ্‌যাপন করে থাকে।

মেরাজ কী?

মেরাজ আরবি শব্দ, যার বাংলা অর্থ দিদার, ঊর্ধ্বলোকে ভ্রমণ, পথ, সিঁড়ি, ঊর্ধ্বে আরোহণ ইত্যাদি। ইসলামি পরিভাষায়, হজরত মুহাম্মদ (সা.) কর্তৃক বিশেষ বাহন বোরাকের মাধ্যমে মাসজিদুল হারাম থেকে মাসজিদুল আকসা হয়ে প্রথম আসমান থেকে একে একে সপ্তম আসমান এবং সিদরাতুল মুনতাহা পর্যন্ত অতঃপর সেখান থেকে একাকী রফরফ বাহনে আরশে আজিম পর্যন্ত ভ্রমণ, মহান আল্লাহর সঙ্গে সাক্ষাৎ লাভ করে কথোপকথনের মাধ্যমে স্বীয় উম্মতের জন্য সালাত লাভ করা এবং জান্নাত ও জাহান্নাম পরিদর্শন করে ফিরে আসার ঘটনা হলো মেরাজ। মহান আল্লাহ বলেন, ‘আল্লাহ পবিত্র মহিমাময়, যিনি তাঁর বান্দা [মুহাম্মদ (সা.)-কে রজনিতে পরিভ্রমণ (সায়ের) করিয়েছিলেন মসজিদে হারাম থেকে মসজিদে আকসা পর্যন্ত যার চতুস্পার্শকে আমি বরকতময় করেছি- যাতে আমি তাঁকে দেখাই আমার নিদর্শন, নিশ্চয়ই তিনি সবকিছু শোনেন, সবকিছু দেখেন।’ (সুরা বনি ইসরাইল : আয়াত ১)

মেরাজের ঘটনার মাধ্যমে রসুল (সা.)-এর প্রতি রব্বুল আলামিনের শাশ্বত ভালোবাসার এক অনুপম নিদর্শন প্রকাশ পায়।

মেরাজ সংঘটিত হওয়ার আগে রসুল (সা.)-এর শ্রদ্ধেয় চাচা হজরত আবু তালেব (রা.) এবং প্রাণপ্রিয় স্ত্রী হজরত খাদিজা (রা.) একই বছরে ওফাত লাভ করেন। এ বছরকে ইসলামের ইতিহাসে ‘আমুল হুজুন’ অর্থাৎ শোকের বছর বলে আখ্যায়িত করা হয়। তাঁদের দুজনকে হারিয়ে আল্লাহর রসুল (সা.) শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। তাঁর প্রতি কাফেরদের অত্যাচারের মাত্রাও বৃদ্ধি পায়।

ফলে মক্কায় ইসলাম প্রচার করা দুঃসাধ্য হয়ে পড়ে। তিনি তায়েফে ইসলাম প্রচার করতে যান। কিন্তু সেখানেও কোনো সাড়া পাননি, বরং চরম নির্যাতনের শিকার হন। তিনি অত্যন্ত ব্যথিত হয়ে পড়েন। তাই মহান আল্লাহ তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ বন্ধুকে মেরাজের মাধ্যমে নিজের কাছে নিয়ে বন্ধুর ব্যথিত হৃদয়কে প্রশান্ত করে তোলেন।

মেরাজের রজনিতে মহান আল্লাহ এবং রসুল (সা.) দুজনই খুব নিকটবর্তী হন, যেভাবে তীর ধনুকের সঙ্গে মিশে যায়। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআনে ইরশাদ করেন, ‘তাঁদের (আল্লাহ ও রসুল) মধ্যে দুই ধনুকের ব্যবধান রইল অথবা তারও কম। তখন আল্লাহ তাঁর বান্দার প্রতি যা ওহি করার তা ওহি করলেন।’ (সুরা আল নাজম : আয়াত ৯-১০)

রসুল (সা.) ইরশাদ করেন, ‘যখন আমাকে (মেরাজের রজনিতে) আকাশ পরিভ্রমণ করানো হচ্ছিল, তখন মহিমান্বিত প্রতিপালক আল্লাহ আমার নিকটবর্তী হলেন, আর এ সময় তিনি আমার এতই নিকটবর্তী হলেন, যতখানি তির-ধনুকের নিকটবর্তী হয়, অতঃপর তিনি আরও নিকটে এলেন।’ (তাফসিরে দুররে মানছুর ১৫ নম্বর খণ্ড, পৃষ্ঠা ২২৭)

ইমামুল মুরসালিন মর্যাদায় অধিষ্ঠিত

মেরাজের মাধ্যমে রসুল (সা.) ইমামুল মুরসালিন মর্যাদায় অধিষ্ঠিত হন। আল্লাহর সঙ্গে দিদারের প্রাক্কালে তিনি মক্কা মোকাররমা থেকে বায়তুল মোকাদ্দাসে তসরিফ নেন। সেখানে পূর্ব থেকে সব নবী-রসুল তাঁকে সম্ভাষণ জানানোর জন্য সারিবদ্ধ হয়ে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিলেন। হজরত রসুল (সা.)-এর শুভাগমনের সঙ্গে সঙ্গে তাঁরা সবাই পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে ‘আসসালামু আলাইকা ইয়া আউয়্যালিনা ওয়াল আখিরিন’ বলে তাঁকে সালাম পেশ করেন। সে সময় প্রত্যেক নবী-রসুল আনন্দচিত্তে বলছিলেন, ‘মারহাবা ইয়া রসুলাল্লাহ! মারহাবা ইয়া হাবিবাল্লাহ।’ মহান আল্লাহর নির্দেশে রসুল (সা.)-এর ইমামতিতে সব নবী-রসুল দুই রাকাত সালাতুল ইসরা অর্থাৎ ভ্রমণের নামাজ আদায় করেন। এই নামাজের মাধ্যমে আল্লাহর রসুল সব নবী-রসুলের ‘ইমাম’ হিসেবে স্বীকৃতি লাভ করেন।’ মেরাজের রজনিতে সপ্তম আকাশ সায়েরের সময় রসুল (সা.)-এর সঙ্গে প্রথম আকাশে হজরত আদম (আ.)-এর সাক্ষাৎ পান। হজরত ইদ্রিস (আ.), হজরত মুসা (আ.), হজরত ঈসা (আ.) ও হজরত ইব্রাহিম (আ.)-এরও সাক্ষাৎ পেলেন। (বুখারি)

মেরাজের রজনিতে এভাবে মহান আল্লাহ ও তাঁর প্রিয় হাবিব হজরত রসুল (সা.)-এর কথোপকথনের মধ্য দিয়ে পাঁচ ওয়াক্ত নামাজের বিধান উম্মতে মোহাম্মদির জন্য ফরজ করা হয়। মেরাজের মাধ্যমে হজরত রসুল (সা.) যেমন মহান আল্লাহর দিদার লাভ করে ধন্য হয়েছেন, উম্মতে মোহাম্মদিও নামাজের মাধ্যমে আল্লাহতায়ালার দিদার লাভ করতে সক্ষম হবে। হজরত রসুল (সা.) বলেন, ‘নামাজ মুমিন ব্যক্তির জন্য মেরাজ।’ (তাফসিরে মাজহারি, ষষ্ঠ খণ্ড, পৃষ্ঠা ৪১৩)

এ বিভাগের আরও খবর...

পুরাতন খবর

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১  

Archive Calendar

সোম মঙ্গল বুধ বৃহ শুক্র শনি রবি
 
১০১১
১৩১৫১৬
১৯২০২১২২২৩২৪২৫
২৬২৭৩০৩১  
© ২০২১ সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত | নগর সংবাদ
Design & Developed BY:
ThemesCell