নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি (রুপগঞ্জ)
নারায়ণগঞ্জ জেলার রূপগঞ্জের ডাকাতি, চাঁদাবাজি, ব্ল্যাক মেইল ও বিস্ফোরণসহ একাধিক মামলার আসামি দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী নাজমুল হাসান টিপু ওরফে সুমনকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। অন্যদিকে মুন্সিগঞ্জের গজারিয়ার শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ২৩ মামলার আসামি লালু বাহিনীর সেকেন্ড ইন কমান্ড সৈকতকে দুইটি আগেয়াস্ত্র ও গুলিসহ গ্রেপ্তার করেছে র্যাব-১১।
শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ সোনারগাঁ উপজেলার বারদী এলাকা থেকে সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আর সৈকতকে গ্রেপ্তার করা হয় বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) দিবাগত রাতে সিদ্ধিরগঞ্জের মিজমিজি এলাকা থেকে।
নাজমুল হাসান টিপু ওরফে সুমন ঝালকাঠি জেলার ঝালকাঠি সরদের আশিয়ার এলাকার মৃত আক্কাস আলীর ছেলে। সৈকত (৩০) গজারিয়া উপজেলার হোগলাকান্দি গ্রামের সাইফুল ইসলামের ছেলে।
রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সবজেল হোসেন বলেন, নাজমুল হাসান টিপু একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তিনি দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিক ও রাজনীতিবিদসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অপপ্রচার চালিয়ে ব্ল্যাক মেইল করে মোবাইল ফোনে অর্থ দাবি করে আসছেন। তার অপপ্রচারের শিকার হওয়া সিনিয়র সাংবাদিক শহিদুল্লাহ গাজীর দায়েরকৃত মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আসামির বিরুদ্ধে রূপগঞ্জসহ বিভিন্ন থানায় চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও চাঁদাবাজির মামলা রয়েছে। তিনি বিগত দিনে ফ্যাসিস্ট সরকারের সহযোগী হিসেবে কাজ করেছেন। তার সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে নারায়ণগঞ্জ কোর্টে প্রেরণ করা হয়েছে।
এদিকে শুক্রবার (১২ ডিসেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে র্যাব-১১ এর সিপিএসসির কোম্পানি কমান্ডার লে. কমান্ডার নাঈম উল হক জানান, গত ২৬ নভেম্বর রাতে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নের চৌদ্দকাউনিয়া গ্রামে টিকটক ভিডিও বানানোর কথা বলে বাসা থেকে ডেকে নিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় জহিরুল ইসলাম জয় (২৬) নামে যুবককে। তাছাড়া গুয়াগাছিয়া পুলিশ ফাঁড়িতে হামলা, মান্নান নামক এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ছিলেন শীর্ষ সন্ত্রাসী সৈকত। গ্রেপ্তার আসামি উল্লিখিত হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি। ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক ছিলেন।
আসামিকে পরবর্তী আইনানুগ কার্যক্রমের জন্য মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।