প্রিন্ট এর তারিখঃ মার্চ ২, ২০২৬, ৫:২১ পি.এম || প্রকাশের তারিখঃ মার্চ ২, ২০২৬, ২:১২ অপরাহ্ণ
পাঁচজন সংগ্রামী নারীকে ‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৫’ সম্মাননা
সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসামান্য অবদান রাখায় পাঁচজন সংগ্রামী নারীকে ‘অদম্য নারী পুরস্কার ২০২৫’ দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (২ মার্চ) বাংলাদেশ শিশু একাডেমি মিলনায়তনে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সম্মাননা প্রাপ্তদের হাতে স্মারক তুলে দেন প্রধান অতিথি মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কাজী গোলাম। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
অর্থনৈতিকভাবে সাফল্য অর্জনকারী শ্রেষ্ঠ নারী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন আরিফা বেগম।
শিক্ষা ও চাকরি ক্ষেত্রে সাফল্য অর্জনকারী শ্রেষ্ঠ নারী হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন মারুফা আক্তার। শ্রেষ্ঠ সফল জননী নারী হিসেবে সম্মাননা পেয়েছেন নাসরিন আক্তার। নির্যাতনের দুঃস্বপ্ন মুছে জীবনসংগ্রামে জয়ী শ্রেষ্ঠ নারী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছেন মুক্তা আক্তার। আর সমাজ উন্নয়নে অসামান্য অবদানের জন্য শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী হিসেবে সম্মাননা লাভ করেছেন আফরোজা ইয়াসিন।
ঢাকা বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার শরফ উদ্দিন আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা এবং ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি রেজাউল করিম মল্লিক।
আয়োজকরা জানান, তৃণমূল থেকে বিভিন্ন পর্যায়ে সংগ্রাম, সাফল্য ও অবদানের মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা নারীদের স্বীকৃতি দেওয়ার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ ধরনের সম্মাননা নারীদের আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে সচিব কাজী গোলাম বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় নারী উন্নয়ন ও শিশু কল্যাণে কাজ করা একটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়।
নারীর অবদানের স্বীকৃতি দিতেই অদম্য নারী পুরস্কার প্রবর্তন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে স্বাধীনতা যুদ্ধ, গণতন্ত্র আন্দোলন কিংবা সাম্প্রতিক আন্দোলন– সব ক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষদের সঙ্গে সমানভাবে অংশ নিয়েছেন, ত্যাগ স্বীকার করেছেন কিন্তু কখনো পিছিয়ে যাননি। নারীর এই অদম্য শক্তিকে সমাজ যথাযথভাবে মূল্যায়ন করতে পারেনি, যা সামষ্টিক ব্যর্থতা। তবে রাষ্ট্র এ অবস্থার পরিবর্তনে কাজ করছে এবং ভবিষ্যতেও এ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
সচিব আরও বলেন, সংবিধানে নারী-পুরুষের সমতার কথা স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি।
তাই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তুলতে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে, যেখানে নারী-পুরুষ সমানভাবে অধিকার ভোগ করবে এবং জাতি গঠনে ভূমিকা রাখবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জিনাত আরা বলেন, রাষ্ট্রীয়, অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে নিজেদের অবস্থান তৈরি করতে নারীরা যে নিরন্তর সংগ্রাম করছেন, এই পুরস্কার সেই সংগ্রামের স্বীকৃতি।
তিনি বলেন, পুরস্কারপ্রাপ্ত নারীদের পথচলা সহজ ছিল না, নানা বাধা পেরিয়ে তারা আজকের অবস্থানে পৌঁছেছেন। প্রতিটি নারীই নিজ নিজ ক্ষেত্রে অদম্য– এ স্বীকৃতি সমাজে ছড়িয়ে দিতে এ ধরনের আয়োজন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জিনাত আরা জানান, নারীর আর্থসামাজিক ক্ষমতায়নে অধিদপ্তরের বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়িত হচ্ছে, যার মধ্যে রয়েছে মা ও শিশু সহায়তা কর্মসূচি, ক্ষুদ্রঋণ সুবিধা, দক্ষতা উন্নয়ন প্রশিক্ষণ, বিক্রয় ও প্রদর্শনী কেন্দ্র পরিচালনা, বাল্যবিবাহ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোধ কার্যক্রম, ২৪ ঘণ্টার হেল্পলাইন, কর্মজীবী নারী হোস্টেল ও ডে-কেয়ার সেন্টার। এসব উদ্যোগ তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দিতে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তর সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, দেশের বিভিন্ন প্রান্তে অদম্য নারীদের সাফল্যগাঁথা তুলে ধরলে অন্যরাও অনুপ্রাণিত হবে এবং নিজেদের অবস্থান সুদৃঢ় করতে পারবে। সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নারীর ক্ষমতায়নের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা সম্ভব বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।