মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিহত ও আহতদের পরিবারকে, নিহত ২০ লাখ, আহতদের ৫ লাখ।
ঢাকা প্রতিনিধি।
বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নিহত ও আহতদের পরিবারকে বিশেষ আর্থিক অনুদান দেবে সরকার। এ লক্ষ্যে নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ২০ লাখ টাকা এবং আহতদের প্রতিটি পরিবারকে ৫ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদারের স্বাক্ষরিত এক পত্রে অর্থ উপদেষ্টার বরাবর এ সুপারিশ করা হয়।
চিঠিতে বলা হয়, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিধ্বস্তের ঘটনায় মর্মান্তিকভাবে আহত ও নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে আর্থিক সহায়তা প্রদানের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
এ লক্ষ্যে বিমান দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ, আর্থিক সহায়তা ও চিকিৎসা প্রদান বিষয়ে উপদেষ্টা, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সভাপতিত্বে গত ২ ডিসেম্বর একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় দুর্ঘটনায় আহতদের প্রতিটি পরিবারকে ৫ লাখ টাকা এবং নিহতদের প্রতিটি পরিবারকে ২০ লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা প্রদানের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সে অনুযায়ী আহত ৬৪ জনের জন্য মোট ৩ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং নিহত ৩৫ জনের জন্য মোট ৭ কোটি টাকাসহ সর্বমোট ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন হবে।
গত ২১ জুলাই ২০২৫ তারিখে ঢাকার উত্তরা দিয়াবাড়ী এলাকায় অবস্থিত মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর একটি প্রশিক্ষণ যুদ্ধবিমান আকস্মিকভাবে বিধ্বস্ত হয়।
এ মর্মান্তিক ঘটনায় ওই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ২৮ জন শিক্ষার্থী, ৩ জন শিক্ষক, ১ জন আয়া ও ৩ জন অভিভাবকসহ মোট ৩৫ জন নিহত হন। এছাড়া আহত ও মুমূর্ষু অবস্থায় ৫৮ জনের বেশি বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পত্রে সংযুক্ত তালিকা অনুযায়ী আহত ৬৪ জন ও নিহত ৩৫ জনের নাম উল্লেখ রয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের আওতাধীন একটি বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
সাধারণত সরকারি বাজেট থেকে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় না। তবে বিমান দুর্ঘটনায় আহত ও নিহত কোমলমতি শিক্ষার্থী এবং তাদের পরিবারের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এককালীন সরকারি বিশেষ অনুদান দেওয়া যেতে পারে।
এ খাতে সরাসরি কোনো বরাদ্দ না থাকায় মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবালয়ের ‘৩২৫৭১০৩–গবেষণা’ খাতে বরাদ্দকৃত ২৭ কোটি ৩০ লাখ টাকা থেকে ২ কোটি ২০ লাখ টাকা এবং মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীন ‘সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়সমূহ’-এর ‘৩৯১১১১১–সাধারণ থোক বরাদ্দ’ খাতে বরাদ্দকৃত ১৫০ কোটি টাকা থেকে ৮ কোটি টাকাসহ মোট ১০ কোটি ২০ লাখ টাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সচিবালয়ের ‘বিশেষ অনুদান’ কোডে পুনঃউপযোজনের সুপারিশ করা হয়েছে। এ কোড থেকে যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনায় আহত ও নিহতদের পরিবারকে এককালীন আর্থিক সহায়তা প্রদান করা যেতে পারে।
তবে এই বিশেষ অনুদানের ক্ষেত্রে চারটি শর্ত আরোপ করা হয়েছে।
শর্তগুলো হলো- সরকারের প্রচলিত সকল আর্থিক বিধি-বিধান ও নিয়মাচার যথাযথভাবে প্রতিপালন করতে হবে। গত ২ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে অনুষ্ঠিত সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নির্ধারিত হারে অর্থ ব্যয় করতে হবে। আহত ও নিহতদের পরিবারের সঠিকতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট পরিবারের ব্যাংক হিসাবে অর্থ প্রদান করতে হবে। অব্যয়িত অর্থ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে সরকারি কোষাগারে জমা দিতে হবে।