প্রিন্ট এর তারিখঃ ফেব্রুয়ারী ৫, ২০২৬, ৩:০৮ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ ফেব্রুয়ারি ৫, ২০২৬, ২:২৩ পূর্বাহ্ণ
সমাজের সবক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
সমাজের সবক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন-বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান
ঝালকাঠি প্রতিনিধি।।
বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশে নারী-পুরুষ একসঙ্গে মাঠে কাজ করে। কৃষকের সঙ্গে কৃষাণীরাও মাঠে কাজ করে। শুধু মাঠেই নয়, সমাজের সবক্ষেত্রেই নারীরা পুরুষের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। বিশেষ করে গার্মেন্টস খাতকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন নারীরা।
তারেক রহমান বলেন, যে রাজনৈতিক নেতৃত্ব দেশের মা-বোনদের সম্মান করে না, তাদের কাছ থেকে বাংলাদেশ কোনো অগ্রগতি বা মর্যাদাপূর্ণ রাজনীতি আশা করতে পারে না।
ইসলামের ইতিহাসে নারীদের সক্রিয় ভূমিকার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, নারীদের পেছনে রেখে কোনোভাবেই দেশ এগোতে পারে না।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) দুপুর ১টায় বরিশালের ঐতিহাসিক বেলস পার্ক ময়দানে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি অভিযোগ করেন, বাংলাদেশে নতুন এক ধরনের জালিমের আবির্ভাব হয়েছে, যারা গুপ্ত সংগঠনের মাধ্যমে জনগণের ওপর আধিপত্য বিস্তারের চেষ্টা করছে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও মতপ্রকাশের অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। নিশিরাতের ভোট ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়কে অবমূল্যায়ন করা হয়। তবে ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই ব্যবস্থার পতন ঘটে এবং বাংলাদেশ আবার জনগণের হাতে ফিরে আসে।
তারেক রহমান বলেন, দীর্ঘ ১৫-১৬ বছর ধরে দেশের মানুষের ভোটাধিকার ও কথা বলার অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল।
নিশিরাতের ভোট ও ডামি নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের রায়কে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে। ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে সেই ব্যবস্থার পতন ঘটে এবং বাংলাদেশ আবার জনগণের হাতে ফিরে এসেছে।
বরিশালবাসীর সঙ্গে কুশল বিনিময়ের মাধ্যমে বক্তব্যের শুরুতে তারেক রহমান বলেন, এই বাংলাদেশ জনগণের বাংলাদেশ। তাই এই বাংলাদেশ গড়ে উঠবে জনগণের রায়ের ভিত্তিতে।
তিনি বলেন, জুন-জুলাই আন্দোলনে যারা নির্যাতিত হয়েছেন এবং যারা প্রাণ দিয়েছেন, তাদের একমাত্র প্রত্যাশা ছিল জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠা।
বক্তব্যের শেষাংশে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি বিশ্বাস করে জনগণই সব ক্ষমতার উৎস।
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, নির্বাচনের পর পাঁচ বছর জনগণের সেবা করতে হবে এবং জনগণের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।
শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়া বরিশালকে বিভাগ ঘোষণা করেছিলেন। এরপর অনেক সময় পার হলেও বরিশালের উন্নয়ন সেভাবে হয়নি। শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে স্থানীয় মানুষের চিকিৎসার জন্য আরও উন্নত করতে হবে। এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় সমস্যা নদীভাঙন, যার স্থায়ী সমাধান জরুরি।
তিনি বলেন, ১৯৭৮ সালে এই এলাকায় পল্লী বিদ্যুতের লাইন এনেছিলেন জিয়াউর রহমান। বেগম খালেদা জিয়া বরিশালকে বিভাগ ঘোষণা করে নানা উন্নয়নকাজে হাত দেন। কিন্তু গত ১৬ বছরে স্বৈরাচারের আমলে অনেক কাজ জমে গেছে, যা এখন করতে হবে। এসব সমস্যার সমাধান বিএনপি তখনই করতে পারবে, যখন ধানের শীষে ভোট দিয়ে দলকে জয়যুক্ত করা হবে।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য জনগণ এবং জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন। জনগণের ভাগ্য পরিবর্তন হলেই দেশ এগিয়ে যাবে।
তিনি বলেন, গুপ্ত সংগঠনের নেতা তাদের অনুসারীদের বলেছেন, ১২ তারিখ পর্যন্ত জনগণের পা ধরতে, এরপর জনগণ নাকি তাদের পা ধরবে। কিন্তু আমরা বলি, ১৩ তারিখ থেকে আগামী পাঁচ বছর জনগণের পা ধরে থাকব। কারণ জনগণ সঙ্গে না থাকলে কী হয়, তা ৫ তারিখে আমরা দেখেছি। আমরা শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার আদর্শে গড়া জনগণের দলের সঙ্গে আছি।
তিনি বলেন, যারা মিথ্যা কথা বলেন, তাদের দ্বারা সৎ শাসন সম্ভব নয়। ১২ তারিখ আমরা নির্বাচিত হলে ১৩ তারিখ থেকেই দেশ পুনর্গঠনের কাজ শুরু করতে হবে। বেকারদের কর্মসংস্থান, খাল খনন, স্বাস্থ্যখাতের উন্নয়নসহ বহু কাজ করতে হবে।
তিনি বলেন, বিগত এক যুগ ধরে আমরা মিথ্যা উন্নয়ন দেখেছি, মিথ্যা আশ্বাস শুনেছি। অনেক কাজ পড়ে আছে, যা এখন বাস্তবায়ন করতে হবে।
Copyright © 2026 নগর সংবাদ. All rights reserved.