প্রিন্ট এর তারিখঃ জানুয়ারী ১৬, ২০২৬, ৭:৫৪ এ.এম || প্রকাশের তারিখঃ জানুয়ারি ১৬, ২০২৬, ৪:৫৬ পূর্বাহ্ণ
সরস্বতী প্রতিমার কাজে ব্যাস্ত কুমারটুলির মহিলা মৃৎশিল্পী থেকে অন্যান্য শিল্পীরা।
সরস্বতী প্রতিমার কাজে ব্যাস্ত কুমারটুলির মহিলা মৃৎশিল্পী থেকে অন্যান্য শিল্পীরা।
””সম্পা দাস,–সম্পাদক,দৈনিক নগর সংবাদ,নগর সংবাদ ২৪ ডটকম,নগর টিভি,(ভারত) কলকাতা ব্যুরো"""
১৫ ই জানুয়ারি বৃহস্পতিবার, চলছে কুমারটুলি পাড়ায় সরস্বতী প্রতিমার কাজ। মহিলা মৃৎশিল্পী থেকে শুরু করে অন্যান্য শিল্পীরা প্রতিমার কাজ শেষ করতে ব্যস্ত, ছোট ছোট প্রতিমার কাজ শেষ হলেও , বড় প্রতিমার কাজ এখনো অনেকটাই বাকী, তাই চলছে তোর জোর, এমনটাই দেখা গেল শিল্পীদের মধ্যে। তাহার মধ্যে পূজো উদ্যোক্তাদের সমাগম প্রতিমা বায়না দেওয়ার জন্য।

আর কুমারটুলি পাড়া মালি প্রতিমার বিভিন্ন রূপ আমরা দেখতে পাই, সেই রকমই এক মহিলা মৃৎশিল্পী রমা পালের স্টুডিওতে দেখা গেলো প্রায় একশটিরও বেশি সরস্বতী প্রতিমার রূপ বিভিন্ন রকমের শুধু তাই নয়, তাহার প্রতিমার সাজ সজ্জা অন্যান্য প্রতিমা থেকে অনেকটাই আলাদা,

ছোট ছোট প্রতিমা হলেও তোমার রূপ পূজা উদ্যোক্তাদের মন কেড়ে নিয়েছে , বেশিরভাগই প্রতিমা অর্ডার হয়ে গেছে, এই স্টুডিওতেই একটি তার ছোট্ট মেয়ে খুশি বাবার হাত ধরে এগিয়ে চলেছে প্রতিমা গড়ার, এখন পড়ার ফাঁকে কাজে যোগ দিয়েছে মায়ের সাথে,

বাবাকে হারিয়ে মাকে এইভাবে পেয়ে সেও খুশি, মা ও মেয়ে চেষ্টা করছেন বাবার প্রতিমা গড়ার ঐতিহ্য কে ধরে রাখতে, মৃৎ শিল্পী রুমা পাল জানালেন সকলের আশীর্বাদে আমার প্রতিমা নিতে দূর দূরান্ত থেকে আসে, অনেকে ইউটিউব দেখে আমাকে ফোন করে, আমার প্রতিমা অন্য দেশ থেকে যদি অর্ডার হয় পাঠাতে পারব কিনা,

উনি তাদের জানিয়েছেন আমি এখনো পর্যন্ত পাঠাইনি আগামী দিনের চেষ্টা করবো আমার ঠাকুর বিদেশ পাড়ি দিক। তিনি আরো জানালেন আমি এই সরস্বতী প্রতিমার যে সকল ডাকের গহনা ও শাড়ি ব্যবহার করি, সচরাচর কেউ ব্যবহার করে না, এমনকি নিজে প্রতিমা গুলিকে ডাকের গয়নায় সাজিয়ে তুলেন অপূর্ব রূপে,

তুমি আরো জানান আমি এই কষ্টলি ডাকের সাজ পড়ায় বলেই হয়তো প্রতিমার দাম আমার একটু বেশি, কিন্তু তাতে আমার অসুবিধা হয় না। কারণ পূজা উদ্যোক্তারা আমার প্রতিমা প্রতিবছর নিয়ে যান ভালো লাগে বলেই। আপনারা সেটা দাঁড়িয়ে থেকেই দেখতে পাচ্ছেন একের পর এক আমার প্রতিমা বায়না দিয়ে চলে যাচ্ছে। আর সকলে প্রতিমা অর্ডার দিতে এসে আগেই একটি সেলফি তুলে নেন, আর সকলের মুখে একটা কথা সত্যিই ছোট হলেও প্রতিমার মুখগুলি কল্পনীয়। এত সুন্দর সুন্দর মুখের গঠন ও প্রতিমার গঠন।

একিভাবে দেখলাম কুমারটুলির শ্রীরাম স্টুডিওতে, যাহার প্রতিমা বিহার পর্যন্ত পৌঁছে যাচ্ছে, তাহার দুর্গা প্রতিমা, কালী প্রতিমা, জগদ্ধাত্রী এমন কি এখন সরস্বতী প্রতিমা বাইরের দেশে পাড়ি দিচ্ছে, জানালেন আমার একটি ঠাকুর এখনো পর্যন্ত বিহারে চলে গেছে, শ্রীরাম স্টুডিওর ঠাকুর কুমারটুলি সমস্ত প্রতিমা থেকে একেবারে অন্য রূপে তৈরি হয় , আর উদ্যোক্তাদের ভীড় জমে উঠে, তাহার প্রতিমা দেখতে, সকলেই সেলফি তুলতে ব্যস্ত, চোখের সামনে না দেখলে, মনে হবে কিছু একটা মিস করেছি, যেমন সাজ তেমনি রুপ, এবং শ্রীরাম স্টুডিওর শিল্পী গর্বিত তার প্রতিমা নিতে বিদেশ থেকে আসে, এবং প্রতিমাগুলি একে একে বিদেশে পাড়ি দেয়।

সেইরকম কুমারটুলি পাড়ায়,কোথাও চলছে প্রতিমার গায়ে মাটি দেওয়ার কাজ, কোথাও বা প্রতিমার গায়ে রং দেওয়ার কাজ, আবার কোথাও সরস্বতী প্রতিমার গায়ে শাড়ি ও গয়না পোড়ানোর কাজ চলছে পুরোদমে, তাহার মধ্যে কিছু ছোট প্রতিমা তৈরি হয়ে গেছে, পুজো উদ্যোক্তারা এবং বাড়ির পরিবারের মানুষজন আসছেন প্রতিমা কেউ বায়না দিতে কেউ আবার সাথে সাথে কিনে নিয়ে যাওয়ার জন্য এমনটাই চোখে পড়ছে, তার সাথে সাথে ক্লাব উদ্যোক্তারা বড় প্রতিমা ও বায়না দিচ্ছেন, এখন হয়ে গেছে থিম পুজো, তাই প্রতিমার রূপ শিল্পীদের তৈরি করতে হয়, ক্লাব উদ্যোক্তাদের কথামতো। মৃত শিল্পীরা জানালেন কি করব যে যেমন চাইবে আমাদের প্রতিমা তাদের মতো তৈরি করতে হবে, আগে আমরা যেমন তৈরি করতাম উদ্যোক্তারা তাই কিনতো, এখন তার উল্টো, উদ্যোক্তারা যা বলবেন তাই আমাদের তৈরি করতে হবে।

যে সকল সরস্বতী প্রতিমা কুমারটুলি পাড়ায় তৈরি হয়েছে, তাহার মূল্য আড়াই হাজার টাকা থেকে শুরু করে 3000,5000, 10000 থেকে তাহার উর্ধ্বে। তেমনি ডাকের গয়নার দামও অনেক বেশি যেমন জিনিস তেমনি তাহার দাম,
উদ্যোক্তারা জানালেন কি করব কিছুই করার নাই, বাজেট রাখি একরকম ,আর কিনতে এসে হয়ে যায় আরেকরকম। কারণ প্রতি বছরই প্রতিমা থেকে শুরু করে অন্যান্য সামগ্রী দাম বেড়েই চলেছে। অন্যদিকে কুমারটুলির মৃৎশিল্পীরা জানালেন আমাদেরও কিছু করার নাই। আমরা যেমন কিনব সেইভাবে প্রতিমার দাম রাখতে হয়। কিছুর দাম বাড়ার সাথে সাথে লেবারদেরও মজুরি বেড়ে যাচ্ছে।আর কয়েকদিন বাদেই বাণী বন্দনায় মেতে উঠবে সারা দেশ। স্কুল থেকে ক্লাব ,ক্লাব থেকে বাড়ির পুজো, ছোট ছোট ছেলে মেয়ে থেকে শুরু করে সকলে নতুন জামা কাপড়ে সেজে উঠবে, আর সরস্বতী মায়ের কাছে পুষ্পাঞ্জলি দেওয়ার জন্য অপেক্ষা করবে, কখন সরস্বতী মায়ের কাছে পুষ্পাঞ্জলী দিয়ে নিজের মনের প্রার্থনা জানাবেন। স্কুলে স্কুলে ভীড় জমাবে ছাত্র ছাত্রীরা

””সম্পা দাস,–সম্পাদক,দৈনিক নগর সংবাদ,নগর সংবাদ ২৪ ডটকম,নগর টিভি,(ভারত) কলকাতা ব্যুরো"""
Copyright © 2026 নগর সংবাদ. All rights reserved.