সোনারগাঁওয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া নারীসহ আহত ৭
স্টাফ রিপোর্টারঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জের ধরে শাহ জামাল ও মীর কবির গং নামে দুই পক্ষের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসময় নারী সহ ৭ জন আহত হয়েছেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। সোমবার (১৯ জানুয়ারি) বিকেলে উপজেলার মোগরাপাড়া ইউনিয়নের কামারগাঁও এলাকায় এঘটনা ঘটে।

থানায় অভিযোগের বরাত দিয়ে ভুক্তভোগী মোঃ শাহ জামাল (৫৪) বলেন, পৈত্রিক সূত্রে মালিক হইয়া আমরা প্রায় ৭০ বছর যাবৎ আমাদের এই বসত বাড়িতে ভোগদখলকার অবস্থায় শান্তিপূর্ণ ভাবে বসবাস করে আসছি। গত কয়েক বছর যাবৎ একই ইউনিয়নের বাড়ি মজলিস গ্রামের মৃত কালুমিয়ার ছেলে মীর কবির(৪৮) আমাদের পৈত্রিক সম্পত্তি নানান কৌশলে তার সন্ত্রাশী বাহিনী দিয়ে জোর পূর্বক ভাবে দখলে নেয়ার পায়তারা চালিয়ে আসছে।

এবিষয় নিয়া বিবাদীদের সাথে স্থানীয় ভাবে একাধিকবার আপোষ মিমাংশার চেষ্টা করিলেও বিবাদীরা কাহারো কোন কথা কর্নপাত না করিয়া আমাদের সম্পত্তি জোর পূর্বক দখল করার চেষ্টা করিতে থাকে। একপর্যায়ে বিবাদীরা এসিল্যান্ড অফিসে একটি অভিযোগ দায়ের করে। যাহার কারণে ১৯ জানুয়ারি বিকাল অনুমানিক ৩ টার দিকে এসিল্যান্ড অফিস হইতে তদন্তের জন্য আমাদের বাড়িতে আসে। বিবাদীরা এসিল্যান্ড অফিসের লোকজনদের আমরা নাকি এখানকার ভাড়াটিয়া এবং আমাদের সহিত কথা বার্তা বলতে না দিয়ে তর্কে জড়িয়ে পড়ে।

এরই ধারাবাহিকতায় বিবাদী ১। মীর কবির হোসেন (৪৮), পিতা- মৃতঃ কালু মিয়া, সাং বাড়ি মজলিস, ২। রফিক (৫৫), পিতা- মৃতঃ মোসলেহ উদ্দিন মুন্সী, সাং কামারগাঁও, ৩। রতন (২২), পিতা- আয় হান্নান, সাং চর সফিকা, ৪। সাগর (২৪), পিতা- শাহ আলম, সাং চর সফিকা, ৫। রানা (২৮), পিতা- আলম, সাং চর সফিকা, ৬। হাসমত (৩২), পিতা-মোতালেব, সাং কানাই নগর, ৭। তাদু (৩৪), পিতা- মহি, সাং চর সফিকা, ৮। রমজান (২০), পিতা- আঃ হান্নান, সাং চর সফিকা, ৯। জুলহাস (৫৫), পিতা- মোসলেহ উদ্দিন, সাং কামারগাঁও, ১০। কালাম (৪০), পিতা- মৃতঃ শাহাবুদ্দিন, সাং মল্লিকপাড়া, সর্ব থানা- সোনারগাঁ, জেলা- নারায়ণগঞ্জ-গণ বর্ণিত বিবাদীরা সহ অজ্ঞাতনামা ৮/১০ জন বিবাদী তাহাদের হাতে থাকা ধারালো ছেনদা, চাপাতি, হকিষ্টিক, লোহার রড, এসএস পাইপ, লাঠিসোটা সহ দেশীয় অস্ত্রসস্ত্রে সজ্জিত হয়ে সোনারগাঁ থানাধীন কামারগাঁও সাকিনস্থ আমাদের বসত বাড়িতে অনাধিকার প্রবেশ করতঃ বিবাদীরা আমাদের বসত ঘরের দরজা জানালা কোপিয়ে ও পিটিয়ে ভাংচুর করে ক্ষতি সাধন করে। তখন আমার স্ত্রী তাছলিমা (৪৫), আমার ছেলে সিফাত (২৪)ও রাহাত (১৯), চাচাতো ভাই মাসুদ (৪৩), চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রী টগর (২৭), জুয়েল (২৭)-গণ বিবাদীদের মৌখিক ভাবে প্রতিবাদ করে বাঁধা দেয়ার চেষ্টা করলে বর্ণিত ১নং বিবাদীর হুকুমে সকল বিবাদীরা এলোপাথাড়ী ভাবে মারধর করিয়া আমাদের শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা জখম করে। ১-৪নং বিবাদীরা তাহাদের হাতে থাকা লোহার রড ও এসএস পাইপ দিয়া হত্যার উদ্দেশ্যে পিটিয়ে আমার ছেলে সিফাতের হাতে পায়ে সহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফোলা ও রক্তাক্ত জখম করে। ২নং বিবাদী ধারালো চাপাতি দিয়ে জুয়েল এর মাথায় কোপ মারলে সে তাহার বাম হাত দিয়ে ঠেকায়, এতে কোপটি জুয়েল এর বাম হাতের কনুইয়ের উপর লেগে গুরুতর কাটা রক্তাক্ত জখম হয়। ৪নং বিবাদী হকিষ্টিক দিয়ে আমার ছেলে সিফাতের মাথায় বারি মারলে সে তাহার ডান হাত দিয়া ঠেকায়, এতে বারিটি তার ডান হাতের কনুইয়ের উপর লেগে গুরুতর হাড় ভাঙ্গা জখম হয়। ৩নং বিবাদী তাহার হাতে থাকা এসএস পাইপ দিয়ে মাসুদের মাথায় বারি মারলে বারিটি তার নাকে লাগিয়া গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়। ৫নং, ৬নং ও ৭নং বিবাদীরা আমার স্ত্রী এবং আমার ভাইয়ের স্ত্রীর পরিহিত কাপড় টানা হেছড়া করিয়া শ্রীলতাহানি করে। ৭নং বিবাদী আমার স্ত্রীর গলায় থাকা একটি আট আনা ওজনের স্বর্নের চেইন, ৮নং বিবাদী আমার চাচাতো ভাইয়ের স্ত্রীর গলায় থাকা একটি একভরি ওজনের স্বর্নের চেইন, ৯নং বিবাদী আমার ছেলে রাহাত এর কাছে থাকা একটি মোবাইল ফোন, অপর ৭নং, ৯নং ও ১০নং বিবাদীরা আমার বসত ঘরে প্রবেশ করে আলমারীতে থাকা নগদ দেড় লক্ষ টাকা নিয়ে যায়। তখন আমাদের ডাক চিৎকারে লোকজন এগিয়ে আসলে বিবাদীরা সুযোগ মত পেলে আমাদের খুন জখম করবে মর্মে প্রকাশ্যে হুমকি প্রদান করে চলে যায়। পরে উপস্থিত লোকজনের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাই। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক জুয়েল এর শারীরিক অবস্থা আশংকাজনক হওয়ায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন।
সোনারগাঁও থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মহিবুল্লাহ বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশ পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ ধাওয়া করে একটি ছেনদা উদ্ধার করে। এঘটনায় অভিযোগ নেয়া হয়েছে, মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।