কেন্দ্রীয় সরকারের দমন পীড়ন ও তথ্য চুরির বিরুদ্ধে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে মহা মিছিল।
””সম্পা দাস,–সম্পাদক,দৈনিক নগর সংবাদ,নগর সংবাদ ২৪ ডটকম,নগর টিভি,(ভারত) কলকাতা ব্যুরো”””
৯ই জানুয়ারি শুক্রবার, ঠিক দুপুর দুটোয়, মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে, কেন্দ্রীয় সরকারের দমন পীড়ন ও তথ্যচুরির বিরুদ্ধে, গণতন্ত্র রক্ষার পথে, মানুষের পক্ষে লড়াই করতে, যাদবপুর এইট বি বাসস্ট্যান্ড থেকে হাজরা মোড় পর্যন্ত প্রতিবাদ মহামিছিল করলেন। এই বিশাল মিছিল যাদবপুর ৮বি বাস স্ট্যান্ড থেকে শুরু হয়ে, যাদবপুর থানা, আনোয়ার শাহ রোড ধরে টালিগঞ্জ ফাঁড়ি হয়ে রাসবিহারী মোর হয়ে কালীঘাট হাজরায় গিয়ে পৌঁছান এবং হাজরা মোড়ে একটি প্রতিবাদ সভা করেন।

মিছিলের প্রথম ভাগে ছিলেন, জননেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, মহানগরী ফিরাদ হাকিম, মন্ত্রী অরূপ বিশ্বাস, বিধায়ক দেবাশীষ কুমার, মন্ত্রী শশী পাঁজা, মন্ত্রী সুজিত বোস, বিধায়িকা নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়, বাবুল সুপ্রিয়, সোহম, দেব, জুন মালিয়া, রচনা ব্যানার্জি, কল্যান বন্দ্যোপাধ্যায়, দেবলীনা, সায়নী ঘোষ, সহ একাধিক সাংসদ, বিধায়ক, বিধায়িকা এবং কাউন্সিলররা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় একটা কথাই বলে উঠেন আমরা দিদির পাশে আছি, থাকবো। আমরা দিদির পথ ধরেই চলবো, যিনি সত্যের জন্য লড়াই করেন, বাংলা কে বাঁচানোর জন্য লড়াই করেন, বাংলার মানুষের কথা ভাবেন, দিদি আমাদের গর্ব , দিদি আমাদের আশা ভরসা, যিনি সকলকে এক করে রেখেছেন। যিনি ২৫ বছর ধরে মানুষকে পথ দেখিয়েছেন। তাই বাংলায় গণ তন্ত্রকে হত্যা করতে দেব না, আর আমরা কেন্দ্রীয় দমন পীড়ন সহ্য করবো না, এবার বাংলার মানুষ বুঝিয়ে দেবে, আজকের এই মহা মিছিল ও সভা থেকে, এবং ন্যায্য অধিকার আদায় করে নেবে।

মঞ্চে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে গর্জে উঠলেন।, এবং কেন্দ্রীয় সরকারকে হুঁশিয়ারি দিলেন।তিনি বলেন আমি ছোটবেলা থেকে রাজনীতি করতে গিয়ে মার খেয়েছি মাথা ফাটিয়েছি, ৩৪ টা সেলাই হয়েছিল। তবু আমাকে দমাতে পারেনি।তারপরেও অনেকবার মার খেয়েছি, শুধু একটা কথা বলব যদি কেউ আঘাত না করে আমি ঘুমিয়ে পড়ি গল্পের বই পড়ি, গল্প লিখি, ভোরের দিকে তিন ঘন্টা ঘুমাই, কিন্তু কেউ যদি আঘাত করে তাকে আমি ছাড়ি না, তার শেষ দেখে ছাড়ি। আমি কয়েক দিন ধরে কিছু একটা গন্ধ পাচ্ছিলাম।অভিষেক ও আমাকে এসএমএস করেছিল, আমার দেখা হয়ে উঠেনি, আমার বিরুদ্ধে অনেক কুৎসা রটান, চক্রান্ত করেন, কিন্তু একটা কথা জেনে রাখা দরকার, তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা এক একটা দলের এক একটা সম্পদ। অন্যায় দেখলে মুখ বুজে থাকে না, ওনারা জানেনা ,যদি কর্মীদের এক একজনকে বলা হয় ফাঁসির কণ্ঠে গলা দিতে, একবার না করবে না, আর ওরা একটা পার্টি নাকি, অনাচারী পাটি, এইরকম পার্টি আমি জীবনে দেখিনি, এরা পার্টি না দোপাটি, তাই ওরা গান্ধীজীর নাম্বার দেয়া থেকে শুরু করে স্বামী বিবেকানন্দের নাম পর্যন্ত বাদ দিতে চলেছে।
ওনারা জানে না বাংলায় ৫৯০ জনের ফাঁসি হয়েছিল, যারা মুখ বুজে ফাঁসি মেনে নিয়েছিলেন, বাংলার মাটিতে বাংলা রক্ষার জন্য, আর সেই বাংলায় নাকি, বাংলায় কথা বললে বাংলাদেশী হয়ে যায়, আবার বলেন বাংলায় নাকি রোহিঙ্গা ভর্তি, তাই এখনও পর্যন্ত একটাও রোহিঙ্গা খুঁজে পেল না।

এত বাংলার উপর হামলা কেন, উনাদের বাংলার উপর হামলা করার উদ্দেশ্য হলো, জোর করে মহারাষ্ট্রের মতো বাংলাকে দখল করা, যেভাবে মহারাষ্ট্রকে দখল করেছে। সেটা কোনদিনও হতে দেব না,
ওনারা জানেন না, সুস্থ বাঘ এর থেকে আহত বা কতটা ভয়ংকর হয়, তাই বাংলার বাঘকে আঘাত করলে, সেই বাঘ কতটা তীব্র হতে পারে এই মহা মিছিল থেকে বুঝিয়ে দিলাম, সারা দেশ খেয়েছে, দেশের টাকা বাইরে বেঁচে এক একজন সোনার হার পড়ে এসেছে। আর বাংলা ট্যাক্স এর টাকা নিয়ে, আমাদের দেয় ওনার নিজের টাকা নাকি, যেটা দেয় সেটা জনগণের টাকা।
চার বছর ধরে গরিবের টাকা দেয়নি, রাস্তার টাকা ,জলের টাকা, জীবনের টাকা, কোনটাই দেয়নি সব বন্ধ করে দিয়েছে। বাংলা আমার বন্ধ হয়ে গিয়েছে,
এখন এস আই আর নিয়ে বাঙ্গালীদেরকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।, একবার বলা হচ্ছে অনলাইনে ফরম ফিলাপ করুন, আবার বলা হচ্ছে চার নম্বর ফর্ম ফিলাপ করুন, তিনবার যিনি সাংসদ সেই দেব কে পর্যন্ত হিয়ারিংয়ে ডাকা হয়েছে, লজ্জা হওয়া দরকার। আসলে ওনাদের উদ্দেশ্য, ভ্যানিশ বাবুকে দিয়ে দেড় কোটি ভোট বাতিল করে বাংলাকে দখল করা, সেটা কোনদিনও হতে দেব না।
তাই তোমাদের জন্য তৈরি করেছি তিলের নাড়ু, মুড়ির নাড়ু, চিরের নাড়ু, আর বাংলার মেয়েরা আপনাদের মারবে ঝাড়ু। একটা কথা জানবেন তৃণমূলকে যদি এখানে পুতেন দিল্লিতে গিয়ে জন্মাবে। আর দিল্লিতে গিয়ে যদি পোতেন বাংলা এসে জন্মাবে, তাই হুঁশিয়ার, বাংলার জনগণকে ভাওতাবাজি দেবেন না।, বাংলার মানুষ সব ধরে ফেলেছে,
তাই আজ মহা মিছিলের মধ্য দিয়ে গর্জে উঠেছে, বাংলার ভাই বোন আমার সন্তান, যতই আমার নামে কোটকাচারি করুন কিছুই করতে পারবেন না, মনে করলে বিজেপিকে দিল্লি থেকে মুছে দেবো, আর আমাকে বেশি কিছু করলে আমারও কাছে অস্ত্র আছে। ভুলে যাবেন না। আমারও কাছেই পেনড্রাইভ আছে। সমস্ত তথ্য রাখা আছে। এইভাবে একের পর এক প্রতিবাদে গর্জে উঠলেন।
দুপুর ১২ টা থেকে দলে দলে বিভিন্ন জেলা থেকে কয়েক হাজার তৃণমূল কর্মী ৮বি বাসস্ট্যান্ডে জমায়ে হন, প্রায় পাঁচ থেকে ছয় হাজার তৃণমূল কর্মী এই মহা মিছিলে পা মেলান, মিছিল শুরুর হওয়ার সাথে সাথে রাস্তার দুধারে অগণিত দর্শক অপেক্ষা করেন মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীকে দেখার জন্য,
কিছু কিছু জায়গায় তৃণমূল কর্মীদের স্লোগান শুনতে পাওয়া যায়, জয় বাংলা, এবং কলেজের ছেলেমেয়েদের কাঁসর ঘন্টা বাজাতে দেখা যায়। কেউ কেউ বলে ওঠেন ২৬ শে আবার দিদি, আমরা আবারো বাংলায় জননেত্রীকে দেখতে চাই। অনেকে মোবাইলের টক জ্বালিয়ে দিদিকে স্বাগত জানান।
