https://nagarsangbad24.com/রামকৃষ্ণ-মঠ-ও-রামকৃষ্ণ-মি/: রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন এবং বেলুড় মঠের উদ্যোগে বিবেকানন্দের ১২৯ তম স্মারক পালিত
nagarsangbad24
প্রকাশিত: ফেব্রুয়ারি, ২০, ২০২৫, ১:৩০ পূর্বাহ্ণ
১৫৬ ০৯ বার দেখা হয়েছে
রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন এবং বেলুড় মঠের উদ্যোগে বিবেকানন্দের ১২৯ তম স্মারক পালিত
“সম্পা দাস,সম্পাদক, নগর টিভি, দৈনিক নগর সংবাদ, নগর সংবাদ ২৪ ডটকম ” কলকাতা বু্রো”
১৯ শে ফেব্রুয়ারী বুধবার, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন এবং বেলুড় মঠের উদ্যোগে, বিশ্ব বিজয়ী স্বামী বিবেকানন্দের ১২৯ তম স্মারক দিবস ২০২৫ পালিত হল এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে,
বজ বজ স্টেশন থেকে শিয়ালদা স্টেশন ট্রেনে করে, এরপর শিয়ালদা স্টেশন থেকে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এম জি রোড ধরে, বিবেকানন্দ রোডের সংযোগস্থলে বিবেকানন্দের বাড়ী হয়ে, বিধান সরণী ধরে শ্যামবাজার মোড়, শোভাবাজার হয়ে আলমবাজার মঠে শেষ করেন।
বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার সাথে সাথে বিবেকানন্দ অনুগামীরা মোড়ে মোড়ে এই দিবস পালন করেন, এবং শোভাযাত্রায় বিবেকানন্দের মূর্তিতে ফুল দিয়ে স্মরন করেন। এই দিনটি অর্থাৎ ১৯ শে ফেব্রুয়ারী ১৮৯৭ সালে বিশ্ব বিজয়ী স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতায় প্রত্যাবর্তন ও আলম বাজার মঠে পদার্পণ।
এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় উপস্থিত ও সহযোগিতায় আলমবাজারের মধু মহারাজ, মেডিকেল ব্যাংকের ডি আশীস, স্বামীজীর জন্ম উৎসব কমিটির কমল চ্যাটার্জী ও বাবু দাস, বজবজ স্মরক কমিটির স্মৃতিরঞ্জন ঘোষ, স্নেহাশীষ মিত্র অসীম অধিকারী , শিয়ালদা স্টেশন রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনের সাধু সন্ত বৃন্দ ও ভক্তবৃন্দ। আমার অধিকারের বাপি ঘোষ,
বজ পৌরসভা ,কলকাতা পৌর সংস্থা সহ বিভিন্ন ক্লাব ও বিভিন্ন সমাজসেবী সংগঠন। কয়েক হাজার ভক্ত এই বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রায় পা মেলান, চলছে মাধ্যমিক পরীক্ষা, তাই যাতে কোনরকম যানজট না হয় ছাত্রছাত্রীরা পরীক্ষা দিয়ে সুষ্ঠুভাবে ফিরতে পারেন, দিক চিন্তা করেই, পরীক্ষা শেষ হওয়ার পর বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা শুরু হয়
এবং স্বামীজীর জয়ধ্বনি দিতে দিতে আলম বাজারে শেষ করেন। আজকের দিনটি ভারতবর্ষের মানুষের কাছে একটা গর্ব, কিভাবে স্বামী বিবেকানন্দ কলকাতায় পৌঁছেছিলেন কেন আজ ভারতবাসী তাকে ভুলতে পারেননি, মনে রেখেছেন, এবং আজকের দিনটি সারা বিশ্বে ধ্বনিত হল ও স্বামীজিকে স্মরণ করলেন,
১৮৯৩ সালের ১১ সেপ্টেম্বর শিকাগো বিশ্ব ধর্ম মহা সম্মেলনের পর, বিশ্বজয়ী স্বামী বিবেকানন্দ প্রায় চার বছর আমেরিকা ও ইউরোপে বেদান্ত প্রচার করে। ১৫ই জানুয়ারী ১৯৯৭ তদানীন্তন ভারতবর্ষের অন্তর্গত সিংহলে প্রত্যাবর্তন করেন এবং ২৬ শে জানুয়ারী ১৮৯৭ সালে ভারতবর্ষের মূল ভূখণ্ডে তথা দাক্ষিণাত্যে পামবানে জাহাজ থেকে পদার্পণ করেন। তাহার বেশ কয়েকদিন পর ১৮ই ফেব্রুয়ারী ১৮৯৭ সালে রাতে এস এস মোম্বাশা জাহাজে বজবজে আসেন, বজ বজ স্টেশনে বিশ্রাম কক্ষে ভোর পর্যন্ত তিনি অবস্থান করেন, ১৯শে ফেব্রুয়ারী স্বামীজী বিশেষ ট্রেনে সকাল সাড়ে সাতটায় শিয়ালদা স্টেশনে পৌছান।
সাথে সাথে উৎসব ক্ষেত্রে পরিণত হয় শিয়ালদা স্টেশন, চতুর্দিকে লোক এবং ওই সকালে বিশ হাজার মানুষ স্বামীজীকে অভ্যর্থনা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন। ট্রেন যখন শিয়ালদা স্টেশনে থামে স্বামীজী ট্রেনের দরজায় দাঁড়িয়ে সকলকে করজোড়ে অভিবাদন জানালেন। এবং সকলে তার পদধূলি নিতে লাগলো, দূরে যারা ছিল তাহারা জয়ধ্বনি দিতে শুরু করে,
জয় পরমহংস রামকৃষ্ণ দেব কী জয়, জয় স্বামী বিবেকানন্দ কী জয় এবং সাথে সাথে ফুলের মালায় স্বামীজীর দেহ প্রায় ঢেকে দিয়েছিল। কিছুক্ষণ পরে স্বামীজী যখন গাড়িতে উঠছিলেন ,একদল ছাত্র স্বামীজীর গাড়ির ঘোড়া দুটিকে ছেড়ে দিয়ে নিজেরাই গাড়ি টেনে নিয়ে চলেছিল, তার সাথে সাথে চলল শোভাযাত্রা, সামনে ব্যান্ড ,মাঝখানে স্বামীজীর গাড়ি ,
তার পিছনে একটি কীর্তন দল ,এদের পিছনে অগণিত মানুষের সারি, পথে দু’ধারে উৎসাহী মানুষের ভিড়। স্বামীজী সমস্ত পথ ধরেই আলমবাজার পৌঁছেছিলেন।আজ সেই স্বামীজীকে একইভাবে স্মরণ করলেন অগণিত ভক্তএবং দুই ধারে সাধারণ মানুষের জয়ধ্বনিতে।
“”সম্পা দাস,সম্পাদক, নগর টিভি, দৈনিক নগর সংবাদ, নগর সংবাদ ২৪ ডটকম ” কলকাতা বু্রো”