সোনারগাঁওয়ে পরাজিত প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের কর্মী সমর্থকদের বাড়িতে হামলা ভাংচুর লুটপাট
সোনারগাঁও প্রতিনিধিঃ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পরাজিত প্রার্থী মুহাম্মদ গিয়াস উদ্দিনের কর্মী ও বহিষ্কৃত যুবদল নেতা আশরাফ প্রধানসহ তিন বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় বাড়িঘর, গাড়ি ও দোকানপাট ভাঙচুর এবং লুটপাট করা হয়। হামলায় তিনজন আহত হয়েছেন।
শুক্রবার (২৬ ফেব্রুয়ারী) রাত ১০টার দিকে উপজেলার পিরোজপুর ইউপির প্রতাপের চর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের সোনারগাঁও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী আশরাফ প্রধান জানান, ঘটনার বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এদিকে নিজের নিরাপত্তা চেয়ে তিনি শনিবার দুপুরে প্রতাপের চর এলাকায় এক সংবাদ সম্মেলন করেন এবং হামলার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে আশরাফ প্রধান বলেন, সেদিন রাতে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নানের ভাতিজা, পিরোজপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি দেলোয়ার বেপারী ও স্বপনের নেতৃত্বে মাহাবুব, জুয়েল, হান্নান বেপারী, রিয়ন, রিয়াদ, আবু সাইদ নোমানসহ ৭০–৮০ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা আশরাফ প্রধানের পাশাপাশি সমর্থক ইসমাইল, সালাউদ্দিন ও জিয়াউর রহমানের বাড়িতেও ভাঙচুর করে।
এ সময় বাড়ির দরজা–জানালা ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়। একপর্যায়ে দুটি পিকআপভ্যান, একটি মোটরসাইকেল ও একটি সিএনজি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়। পাশের বউ বাজার এলাকায় জিয়াউর রহমানের দোকানপাটও ভাঙচুর করা হয়। এতে আনুমানিক ৩০–৩৫ লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেন আশরাফ প্রধান।
হামলায় আশরাফ প্রধানের জামাতা আকাশ মিয়া, ভাগিনা লিমন ও ভাড়াটিয়া মিলনসহ তিনজন আহত হন। তাদের চিকিৎসা চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির বহিষ্কৃত নেতা আশরাফ প্রধান আরও দাবি করেন, তিনি নির্বাচনে একজন স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে কাজ করায় বর্তমান সংসদ সদস্যের লোকজন তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও অভিযোগ করেন। রাতে হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এলেও দফায় দফায় হামলা চালানো হয়েছে। তিনি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।
অভিযুক্ত পিরোজপুর ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি দেলোয়ার হোসেন জানান, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটেছে। তারা উভয় পক্ষই আত্মীয় স্বজন। নিজেরাই বিষয়টি মিমাংসা করে নেবেন বলে তিনি জানান।
নারায়ণগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য আজহারুল ইসলাম মান্নান বলেন, হামলার বিষয়ে আমি কিছুই জানি না, পরে শুনেছি।
সোনারগাঁও থানার পরিদর্শক( তদন্ত) মো. রাশেদুল হাসান খাঁন বলেন, হামলার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। এঘটনায় কেউ থানায় অভিযোগ করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।